শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

গাজা যুদ্ধের এক বছর : যুদ্ধবিরতি কবে হবে?

চোখের সামনে একটি বছর চলে গেলো। à§­ অক্টোবর ২০২৩ থেকে à§­ অক্টোবর ২০২৪ পার হলো। আমরা এই শতাব্দীর নৃশংসতম গণহত্যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হলাম। বর্বর জায়নবাদী ও দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল পুরো ফিলিস্তিনী ভূখন্ডকে গ্রাস করার খায়েশ নিয়ে গত এক বছরে ৪৩ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠনগুলোকে নিশ্চিহ্ন করার অজুহাতে তারা বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পরিচালনা করলেও তাদের হিং¯à§à¦°à¦¤à¦¾à¦° শিকার হয়েছে মূলত সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। প্রতিরোধ সংগঠনগুলোকে মোটেও ধ্বংস করা যায়নি। গাজার বিভিন্ন অঞ্চলে এখনো চলছে প্রতিরোধ সংগ্রাম। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের দমন করতে না পেরে ইসরাইলী সেনারা তাদের প্রতিশোধের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে নিরীহ জনগণের ওপর এমনকি বেসামরিক সব স্থাপনার ওপর। গাজার কোনো ভবন এখন আর অক্ষত নেই। হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুল, মাদরাসা এমনকি জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান-কোনো কিছুই ইসরাইলের হামলা থেকে রক্ষা পায়নি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন গাজায় দশ হাজারের বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইডিএফ। 

ইসরাইলের হামলায় শুধু ফিলিস্তিনি নাগরিকই নয়, বরং নানা দেশের নানা সংস্থার প্রতিনিধি যারা গাজায় দায়িত্ব পালন করছিলেন তারাও নিহত হয়েছেন। ইসরাইল লাখো লাখো ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্ছেদ করেছে। গাজার পুরোটাকেই তারা কবরস্থানে পরিণত করেছে। গাজায় এখন অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। সেখানকার মানুষ খাবার পায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের সরবরাহ সেখানে নেই। গাজায় জীবন বাঁচানোর মতো প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করার ক্ষেত্রে ইসরাইল বাধা দিচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্ব গাজা যুদ্ধের ক্ষেত্রে দ্বিচারিতামূলক অবস্থান নেওয়ায় এবং ইসরাইলকে নগ্নভাবে সমর্থন করে যাওয়ায় ইসরাইল দিনে দিনে আরো বেপরওয়া হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরাইলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল চলতি বছরের শুরুতেই। আদালত প্রাথমিক কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। ইসরাইলকেও গাজায় হামলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরাইল তার তোয়াক্কা করেনি। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবও পাস হয়েছে। কিন্তু এরপরও যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। এতগুলো প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা থেকে ইসরাইলকে সংযত হওয়ার আদেশ দিলেও তারা যেভাবে তা অগ্রাহ্য করছে তা নজিরবিহীন। ইসরাইল এমনটা করতে পারছে শুধুমাত্র আমেরিকার কারণেই। আমেরিকা ইসরাইলকে নিয়মিতভাবে অস্ত্র, অর্থ ও সামরিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং এ কাজটি তারা প্রকাশ্যেই করছে।

গাজা যুদ্ধের এক বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে আর যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়েছে। হামাসের হামলার ১২ মাস পর এসে মধ্যপ্রাচ্য এখন ভয়াবহ ও আরও ধ্বংসাত্মক একটি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল এখন গাজার পাশাপাশি লেবাননেও হামলা পরিচালনা করছে। গাজায় যেমন তারা হামাস নিধনের কথা বলে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, ঠিক একই কৌশলে হিজবুল্লাহকে দমনের কথা বলে তারা এখন লেবাননে হামলা করছে। বিগত দুই সপ্তাহে লেবাননে ইসরাইল ২ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক হত্যা করেছে। এটিও তারা করতে পারছে যুক্তরাষ্ট্রের মদদেই। জানা গেছে, মার্কিন কংগ্রেস ইসরাইলের গাজা ও লেবাননে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সম্প্রতি ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অর্থ অনুমোদন দিয়েছে।

পশ্চিমারা যদি এই দ্বৈত আচরণ না করে তাহলে গাজায় যুদ্ধবিরতি কখনোই কার্যকর হবে না। হামাস এরই মধ্যে একাধিকবার শান্তি আলোচনায় বসলেও তাতে ফল আসেনি। ইসরাইল সাড়া দিচ্ছে না, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান-দুই প্রধান দলই শুধু নয়, গোটা মার্কিন প্রশাসন, সিনেট, কংগ্রেস এবং সামরিক নীতি নির্ধারকেরা যেন একজোট হয়ে দখলদার ইসরাইলকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলের গণহত্যাকে পশ্চিমারা যেভাবে অনুমোদন ও সহায়তা দিয়ে গেলো, আর মুসলিম দেশগুলো একত্রিত হয়ে মজলুম গাজাবাসীর পক্ষে দাঁড়াতে যেভাবে ব্যর্থ হলো, তা সাম্প্রতিক মানব ইতিহাসের লজ্জাজনক অধ্যায় হিসেবেই বিবেচিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ